চারটি কবিতা – দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়

স্বর্গচ্যুত

“আদমের লিঙ্গে হাত রেখে ইভ প্রথম বুঝেছিল এ সভ্যতা ফ্যালোসেন্ট্রিক”

 

কঠিন হও প্রিয় আদম নিশ্চল, কঠিন হও ঋজু কঠিন হও

অযথা সন্দেহে লড়াকু বাসি দেহে বিরহী এঁটো খিদে বিছোয় জাল

প্লাবন আমিষাশী, তুমিও বানভাসি, মাতাল ভাগীরথী শরীরে বও

মাদক বুনো ঘ্রাণে কি মায়া জাগে স্নানে, প্রথম মাংসের কার্নিভাল

#

তখনই জিভে রাখি লাভার ধারাপাত, পাহাড় পিচ্ছিল, হঠাৎ ঝড়

এবার শুরু হবে হিংস্র তাণ্ডব, আদিম যুদ্ধের শঙ্খনাদ

ধ্বংস শেষ করে শুয়েছে হোমানলে অর্ধ-ছাই-মাখা-নারীশ্বর

জ্যোৎস্না স্বৈরিণী, তাকে কি আমি চিনি? সূর্য গিলে খাওয়া ঋতুর চাঁদ?

#

আমাকে টেনে নাও এসব মোহ থেকে, অপার বিষপানে কণ্ঠ নীল

করেছি বারবার, এখনও পারাবার দীর্ঘ মন্থনে তেজ দেখায়

কোথায় অমৃত, নেই আর সম্বিতও, চেতন-অচেতনে শঙ্খচিল

ভ্রষ্ট সৈকতে ভোরের লং-শটে সভ্যতার দিকে মুখ ব্যাঁকায়

#

চতুর্দিকে বাড়ে সর্প অবতারে জটিল দেবতার আপেল গাছ

“কামড়ে খেয়েছিস মোক্ষ তৃপ্তির। গর্ভে পাপ নিয়ে এবার বাঁচ”

 


 

যুদ্ধ-পরিস্থিতি

     

শব্দগুলো ভেঙে মেশাও চামড়ায়, করবো অনুভব একতারায়

কিভাবে মূর্ছনা আকুল গাঙ হয়, কিভাবে সাড়া জাগে দুর্বিপাক

বেহায়া রাগগুলো লুটিয়ে মাখে ধুলো, নগ্ন ইচ্ছেরা ঠোঁট বাড়ায়

আকালে ক্ষুধা হও, আমার সুধা হও, আর যা কিছু উচ্ছন্নে যাক

#

হন্যে হয়ে ঘোরে বন্য শালীনতা, দ্রোহজ পাল্টায় সংস্কার

ইস্তেহার লেখে পূর্বপুরুষেরা তোমার খোলা পিঠে, আর তখন

ত্রস্ত শিহরণে কাঁপছে আত্মায় ঘনিয়ে আসা গাঢ় অন্ধকার

সোহাগ ভাবো যা তা আসলে দেহে গাঁথা ক্লান্ত মর্মর, উদযাপন

#

তবুও দৈনিক জরায় ম্লান লীন শ্রান্ত দায়সারা এ অঘ্রাণ

নধর নাগরীর মদনরসে আঁকে লজ্জা-বিজয়ের জয়তিলক

উহ্য গোঙানিতে যেভাবে খুঁজে পায় হার না মানা হারে তার স্লোগান

সেভাবে আমাকেও করেছ উদ্ধার, তোমার ত্বক ছেঁড়ে আমার ত্বক

#

ঢেউয়ে ঘাই মারে লুপ্ত চোরা স্রোত অর্থবহ কোনো উষ্ণতায়


মৌনব্রত

 

নিজেকে ছিঁড়ে ফেলে ওড়াই হাওয়া পথে, সজাগ আনমনা রাত্রিদিন সব

ব্যথিত যা যা সুখ রেখেছে বন্ধক, খুঁজেছে নতজানু কোন অসম্ভব

কার পায়ের ধুলো মেখেছে, কার কাছে চেয়েছে মাধুকরী প্রেমের উচ্ছ্বাস

মানের চেয়েও মন বড়ো অনেক তাই মরেছে বহুবার, মেটেনি অভিলাষ

#

এভাবে হররোজ বিকিয়ে যেতে যেতে এখনও যারা জ্বরে দগ্ধ হতে শেখে

তাদের দেখে যদি করুণা আসে তবে শিখবে ভালোবাসা আজ কাদের দেখে?

কাদের পোড়া দেহে মাখাবে চন্দন, কাদের ছাই ঘেঁটে অস্থি দেবে স্রোতে

যদি না তুমি তার চেয়েও বিপন্ন, যদি না ওই হৃদি আকুল হয়ে ওঠে

#

কে তবে তোমাকেও বলবে ভালো থাকো, কে তবে শুষে নেবে তোমার অভিশাপ

কে তবে শাস্তিতে নরকবাসে যাবে নিজের করে নিয়ে তোমার যত পাপ

তুমি তো তার দিকে ফিরেও তাকাবে না, যখন রাগে ঘোর মৌনব্রত নাও

ভোলার যা তা বেশ যত্নে মনে রাখো, মনে রাখার যা তা সহজে ভুলে যাও

#

এত নিবিড়, বলো কিসের অভিমান? এত অতল কোন স্তব্ধতার লেশ?

অহং উল্লাসে কি এত সুখ পাও? তাকেও শেষ করো, নিজেও হও শেষ

 

বানারস ব্ল্যুজ

 

গোপন সৃষ্টির আদিম যন্ত্রণা, উগড়ে ফেলা ভ্রুণ, রক্তপাত

যেন অসম্ভবে তোমার অবয়বে পৌষে বিনা মেঘে বজ্র হয়

স্তব্ধ উদ্যানে যেভাবে শীত নামে, রিক্ত ডালপালা বাড়ায় হাত

কিভাবে নেবে এই রুক্ষ সমাদর? এমন বৈরাগ তোমার নয়

#

গ্রহণ করো তবে গরল সোমরস, তরল উল্লাসে বিস্মৃতির

শুন্যে ঝাঁপ দিয়ে নিজেকে চিনে নাও। সপাটে চোখ রেখে যে আয়নায়

দৈব্য দর্শনে পেয়েছ দংশন, প্রশ্ন করো তার রাজনীতির

কেন সে তোমাকেই তমাল ভাবে, কেন তোমার হাতে তার মরণ চায়

#

শানিত তলোয়ারে বেঁকেছে ঘাটগুলো, নোনতা ঘাম ঝরে বিরামহীন

ধারণ করি তার উগ্র জলবায়ু, মন্ত্র পাঠ করি অনন্তের

আমাকে চন্ডাল করেছে মহাকাল, বাসনা অচ্ছ্যুত, রাত্রিদিন

স্পর্শদোষে কাঁপে নিবিড় অভিশাপে লৌহশৃঙ্খল গ্রহের ফের

#

কিন্তু অঘটন ঘটেই, জানো তুমি নিয়তিতাড়িত এ সোহাগশ্লেষ

অচিরে ছাই হবে, তবুও পুড়বে না নগ্ন স্পর্ধার নেশার লেশ

A Declaration, A Pledge, A Caveat: A Voice from Jadavpur

 

Image result for raised hands

They want to curb our voices, because they are scared. They want to silence us with missiles, for they realise the power of unity. They want the world to understand that students aren’t meant to raise slogans. That students are, after all, sent to colleges and universities to study, only. They say, therefore, that students who look the authorities in the eye and protest against the injustice meted out to them have nothing ahead. They want people to believe that students have no role in movements; that they have no central position to play in politics. Why should students be involved in politics, they ask? Why should they be part of protest rallies when they’re meant to be in classrooms? Why, they ask, should a student have the courage to challenge a man in power? Why should a student dare to ask questions?

They forget how student movements across generations in our country have made governments fall, how the youth have always had the courage to bring down fascist, authoritarian regimes.  They have forgotten the power students possess.

You have definitely heard about the ongoing protests in Jadavpur University. You have read newspapers that report “gheraos” that lead, according to them, to the “suspension of classes”. It is justified for you to nod your head in despair over your morning tea, exclaiming how unnecessary such protests ultimately are. It is okay for you to condemn students asking for their basic right to form unions, one guaranteed by the constitution of the country.  It is okay because you are led to believe false notions by the state. You are forced to see what they want you to see: a bunch of jobless students agitating because they have no better thing to do.

You must have seen images of students protesting against the decision of the State Government which in an attempt to silence the voices of the student community altogether, has issued what was first called a Government Order and later a Gazetted Act, the primary intention of which is to replace student unions in colleges and universities across Bengal with a “Council”, meant to be “devoid of any political influence”, hence curbing the voices of the most important section of the society: the youth.

The Act, imposed on us by the State Government, curbs not only our right to form a union but also our right to voice our opinion.  Jadavpur University has always had a legacy of democracy and peaceful elections. Thus, the logic put forward by the Government along the lines of violence during student elections falls flat on its face. Jadavpur has never witnessed any sort of violence or disharmony during elections. While the government has tried time and again to champion the idea of a “Xaviers” model, which we think will effectively ruin the autonomy of our university, we, as students of a University that has an environment of democracy and open debate, see more than ever the necessity of putting forward a model based on Jadavpur University, where free thought still prevails, unlike most other places in the country.  We, at JU, believe that this law will not only harm the environment of free thinking within the campus but also affect the basic functioning of the University.

The Act proposes to bring about one Council to replace the three Unions that exist for the three faculties- arts, science and engineering, an idea that is extremely unscientific, to say the least. It is impossible for one council to tackle the issues of all the three faculties, consisting of at least forty odd departments. In addition, it proposes the presence of nominated members in the Council, instead of elected representatives who run our union, hence imposing on us an undemocratic and unacceptable act that the student fraternity does not embrace.  It is unscientific, proposing one class representative per class, without taking into account the strength of the class. We feel that such changes will bring about a situation where our individual problems will not have enough scope to be addressed and important issues at large will lie untouched.   At JU, the student fraternity at large realises that the Council will destroy what we have most often associated with Jadavpur: a sense of democracy, tolerance and concern for everything that happens around us.  The Act intends to turn student representatives into event organisers whose sole purpose is to welcome freshers and organise college fests. We have seen how a student union is way more than just that. A student union is our platform to exercise our rights and voice our opinions. It is a platform through which we can directly confront the administration whenever we are done wrong.  It is a platform through which we can fight for one another, holding each other’s hand in a firm grip. It is way more than a union room, made of four brick walls.  The union, to us, are the voices of dissent that have the power to change everything wrong with the system. The union, to us, is the support that a fresher gets from his seniors during the admission process. The union, to us, is the relief with which the parent of an outstation student can return home, because a hostel is arranged in almost no time. The union, to us, is the phone call that a student can make to her senior to talk about the problems she faces in the campus and outside it.

The implication of the Act, however, is more dangerous that it seems. The state consciously attempts to blindfold us politically, to make it easier for them to serve their purpose of handicapping students altogether.  The West Bengal Colleges and Universities Act has the power to prevent a student from studying in a college simply because he can’t pay as hefty a fee as another student, in the absence of a union that would fight for the right to access to education for all.  It has the power to impose on the campus the presence of moral policing which brings about a direct attack on the freedom of the students. It has the power to bring in more and more self-financed courses that charge enormously high fees, often preventing deserving students from getting admission in the University. This Act, is in fact yet another step towards the main objective of selling education in particular and corporatisation in general. This Act is one of the most regressive, undemocratic decisions that a government has ever tried to impose.

We have pledged to fight together the law that attacks campus democracy. We shall fight till our last breath to save the Union that is ours.

We shall determine politics, in a world where politics determines our future.

 We, the students shall not conform to the impositions of a government that intends to curb free speech and thought in order to serve the ulterior motive of privatisation of education.

We stand strong, united, in the face of overwhelming crises to combat the attack by the state.

“Solidarity forever, for the union makes us strong.”

                                                                                                                        — Shinjini Mukherjee

[Disclaimer: The opinions expressed within this article are the personal opinions of the author. The facts and opinions appearing in the article do not reflect the views of Platos Caves and Platos Caves does not assume any responsibility or liability for the same.]

এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়?

gfd

হে দুর্লঙ্ঘ ভবিতব্য, এখন তুমিও ঠিক ওইভাবে আমার গলা চেপে ধরে আছো।

মাথা কাটা গেছে, আমি শুধু রক্তটুকু বেরতে দেখার স্বাধীনতা চাইছিপাচ্ছিনা।

                                                “অধীনজয় গোস্বামী

“There will be no loyalty except loyalty towards the party. There will be no love except the love of Big Brother…Always, at every moment; there will be the thrill of victory, the sensation of trampling on an enemy who is helpless. If you want a picture of the future, imagine a boot stamping on a human face forever.”

                                                1984 – George Orwell.

অবাধ্যতা রাষ্ট্রের পতন, অবাধ্যতা সংহতির শত্রুআনুগত্য রাষ্ট্রের রক্ষক, আনুগত্য সৃষ্টি করে নিয়মশৃঙ্খলা।

                         – আন্তিগোনে” – সোফোক্লেস (অনুবাদঃ শিশির কুমার দাস)

 

সপ্নসন্ধানীর “আন্তিগোনে” দেখার পর সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি মনের গভিরে, একেবারে অবচেতনের সাগর থেকে চেতনার বাস্তবতায়ে ভূমিষ্ঠ হয়, তা হল এই থিবেস কোথায়ে অবস্থিত? এ কি গ্রীসের নগরী যার অধিপতি ক্রেয়ন…নাকি এই থিবেস আসলে আমাদের অত্যন্ত পরিচিত এক রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সভ্যতার নিষ্ঠুর উপাখ্যান? রাষ্ট্রের অধিপতি যখন ঠাণ্ডা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে হুকুম দেন “রাষ্ট্র চায়ে আনুগত্য”, তখন প্রশ্ন জাগে যে ক্রেয়নের কণ্ঠস্বর হতে ও কার ধ্বনি ভেসে আসে? মিলে যায়ে ইতিহাস ও সমকাল…সভ্যতার মুখোশগুলো আপনা হতেই খসে পড়ে…কান পাতলেই শোনা যায়ে “ক্রেয়নদের” হুঁসিয়ারী ও সৈন্যদের ভারী বুটের শব্দ… বন্দুকধারীরা বলে ওঠে “সাবধান, রাষ্ট্র কিন্তু নজর রাখছে”।

আন্তিগোনে” দেখব বলে সবে প্রেক্ষাগৃহে পা দিয়েছি, ছুটে এল এক উর্দিধারি নিরাপত্তা-রক্ষী। কালাশনিকভ রাইফেল হাতে বলে ওঠে, অতি পরিচিত হুমকির স্বরে, “নাটক দেখতে এসেছেন না? আমরা কিন্তু সব নজর রাখছি”। প্রেক্ষাগৃহে আসন গ্রহণ করতেই মুখে এসে পড়ে সার্চলাইটের তীব্র দৃষ্টি। প্ল্যাকার্ড হাতে ঘুরে চলে একদল মুখোশধারী। প্রতিটা প্ল্যাকার্ডে বর্ণিত পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত, প্রতিটা মুহূর্তে ঘটে চলা যুদ্ধের দামামা…মিলে যায়ে সিরিয়া ও থিবেস। মঞ্চে স্তূপাকৃতি হয়ে ঝুলতে থাকে মৃতদেহ… মঞ্চ জুড়ে ছড়িয়ে থাকে মৃতদেহ… কাউকে চেনার উপায়ে নেই… দেশ, জাতি, সময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এরা শুধুই মৃতদেহ… অন্তর হতে কে যেন বলে ওঠে, “এত রক্ত কেন?”। গোটা প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে বাজতে থাকে যুদ্ধের খবর, গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা, ব্লগার হত্যার নির্মম সংবাদ, সাংবাদিকদের হত্যা, অপুষ্টি, অনাহার, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সোমালিয়া… একে একে সব মিলে যেতে থাকে… এই দমবন্ধকর, সন্ত্রাস-বিধ্বস্ত, মৃতপ্রায় রাষ্ট্রের মাঝে বেজে ওঠে সাইরেন… শুরু হয় কৌশিক সেনের পরিচালনায় “সপ্নসন্ধানীর” নাটক, “আন্তিগোনে”। মনে পড়ে যায় “হ্যামলেট” নাটকে মারসেল্লুসের সেই বিখ্যাত উক্তিঃ

       “Something is rotten in the state of Denmark.”

আন্তিগোনে হল রাজা অয়দিপাউস ও রানি ইয়োকাস্তার মেয়ে। রাজা অয়দিপাউসের মৃত্যুর পর যতদিন তার দুই সন্তান, এতোয়েক্লেস ও পলুনেইকেস, সাবালক হয়নি, থিবেস রাজ্যের রক্ষাকর্তা ছিল অয়দিপাউসের শ্যালক, আন্তিগোনের মামা ক্রেয়ন। দুই ভাই যখন বড় হল, রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে বাধল তুমুল যুদ্ধ। এতোয়ক্লেসের তরবারি বিদ্ধ করে পলুনেইকেসকে। পলুনেইকেসের অস্ত্রে মৃত্যু ঘটে এতোয়ক্লেসের। ক্রেয়ন ঘোষণা করেন যে এতোয়েক্লেস রাষ্ট্রের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে, তাই তাকে বীরের সন্মানে ভূষিত ও সমাধিস্থ করা হবে। কিন্তু পলুনেইকেস ধ্বংস করতে চেয়েছিল পবিত্র থিবেস নগরি, তাই তার নগ্ন দেহ হবে শকুনের খাদ্য। পলুনেইকেসের মৃত্যু-শোক পালনেও জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। আন্তিগোনে এক মুহূর্তে রাজাজ্ঞা ছুড়ে ফেলে দেয়। আন্তিগোনে ঠিক করে যে সে মর্যাদার সহিত পলুনেইকেসের সৎকার করবে। শুরু হয় রাষ্ট্র ও এক নাগরিকের সনাতন যুদ্ধ। ক্রেয়ন মনে করে যোগ্য নাগরিক তাকেই বলে যে সদা রইবে রাষ্ট্রের অনুগত…যে “যুদ্ধের ঝোড়ো দিনেও রইবে আনুগত্যে অবিচল, বিপদের দিনে বিশ্বস্ত সহযোগী”। রাষ্ট্রের কাঠামোর দিকে আঙ্গুল তোলা মাত্রই আন্তিগোনে রাষ্ট্রের চোখে হয়ে ওঠে অপরাধী,  রাষ্ট্রদ্রোহী, বা আজকের দিনে যাকে বলে Anti-National.

রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রর গন্ধ পায়। রাষ্ট্র চায় অবিচল আনুগত্য, নইলে যে রাষ্ট্রের বড় বিপদ। রাষ্ট্রের চোখে সকলেই সন্দেহের ঘেরাটোপে মোড়া। হঠাৎ যদি কেউ গেয়ে ওঠে “কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়…ওরে ভাই রে…”, রাষ্ট্র অমনি গর্জে উঠে বলে, “ এ গান বন্ধ, এর মুখ বেঁধে ফেলো, হাত পা বেঁধে ফেলো, বেঁধে বনের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গর্তের মধ্যে ফেলো”। ক্রেয়নও চায় সম্পূর্ণ আনুগত্য। নাটকের মাঝেই ক্রেয়ন বলে ওঠেন, “পিছনের দিকে ওই ব্যাক্তিটি কে? ওই যে দাড়িয়ে আছেন…” ক্রেয়নের মুহূর্তের নির্দেশে বন্দুকধারী সৈন্যরা দর্শক আসনে এক ব্যাক্তিকে ঘিরে ফেলেন। সার্চলাইট দুটি তাদের খুনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দর্শক আসনে। দর্শকদের মধ্যে থেকে ভয়ার্ত কণ্ঠে এক ভদ্রলোক চিৎকার করে ওঠেন, “আমি অনুগত; রাজা, আমি আপনার অনুগত”। নিভে যায় সার্চলাইট… দর্শকরা ক্রমশ নাটকের চরিত্র হয়ে ওঠে…ফিকে হয়ে যায় বাস্তব ও কল্পনার মাঝে সীমারেখাটি, ভেঙ্গে পড়ে মঞ্চ ও দর্শক আসনের মাঝে চতুর্থ দেওয়াল। ক্রেয়নের বিশ্বাস যে মানুষের সত্যিকারের পরিচয় তার রাষ্ট্রের নিয়মের প্রতি আনুগত্যে। যদি কেউ রাষ্ট্রের ওপরে স্থান দেন আত্মীয়তা, সেও রাষ্ট্রের চোখে ঘৃণার যোগ্য। নাটকের শুরুতেই লেখা হয়ে যায় আন্তিগোনেদের ভবিতব্য, যা কালে কালে, যুগে যুগে সত্য। মিশে যায় অতীত ও বর্তমান… অনুরণিত হতে থাকে ক্রেয়নদের নিষ্ঠুর ক্ষমতার আস্ফালন,“রাষ্ট্র তোমাদের বন্ধু, রাষ্ট্র চায় আনুগত্য”।

কৌশিক সেনের নাটকে মঞ্চের ব্যাবহার সর্বদাই সৃষ্টি করে এক কাব্যময়তা। মনে পড়ে যায় “প্রথম পার্থ”, “মুখোমুখি বসিবার”, “কর্কটক্রান্তির দেশ”, “দর্জিপাড়ার মর্জিনারা”…। কিন্তু “আন্তিগোনেতে” এই কাব্যময়তাকে দূরে সরিয়ে মঞ্চ জুড়ে স্থান নেয় এক বর্বর, নৃশংস হত্যালিলা। সৌমিক চ্যাটার্জির এমন বীভৎস মঞ্চ, স্তূপাকৃতি মৃতদেহ, ক্রমাগত হিংসার খবর, গৌতম ঘোষের আবহসঙ্গিত, যুদ্ধের আওয়াজ…সমস্ত কিছু মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক নরক যন্ত্রণা্র। মনে পড়ে যায় আন্তনিও আরতাউদের            “থিয়েটার অফ ক্রুয়েলটি্র”(Theatre of Cruelty) কথা। শুধু দুঃখ এই, যে পরিচালক হয়ত মুখোশধারীদের আরও কিছুটা ব্যাবহার করতে পারতেন। অন্যদিকে, কোরাসদের ভুমিকাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমার ব্যাক্তিগত মত যে কোরাসদের সংখ্যা কিছুটা কম হলে মঞ্চে অভিনয়ের স্পেসটা আরও প্রসারিত হতে পারত, হয়ত এতটা ভিড় বা “Crowded” লাগত না।

অভিনয়ে ক্রেয়নের চরিত্রে কৌশিক সেন অসামান্য। কৌশিকের ক্রূর দৃষ্টি, আদেশের ভঙ্গিমা, অঙ্গ সঞ্চালন ও হিংস্রতা, এই সব কিছুর বুননে ক্রেয়ন চরিত্রটি মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে। নান্দীকারের “আন্তিগোনের” কথা মাথায় রেখে বলছি, কৌশিকের অভিনয় অনেক দিন মনে থাকবে। “ম্যাকবেথের” কৌশিক সেনের চেয়ে “আন্তিগোনের” কৌশিক সেনকে, অভিনয় ও পরিচালক, দুই ক্ষেত্রেই লেগেছে অনেক পরিণত। “ম্যাকবেথে” পরিচালক তার সমকালীন সমাজকে প্রায় হুবুহু “কোট” করেন, যেখানে ম্যালকম নাটকের শেষে বলে ওঠে, “দশ বছরের কাজ করতে হবে দশ দিনে”। সালটা ২০১২। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়। কিন্তু “আন্তিগোনেতে” কৌশিক নিজেকে ভেঙেছেন ও গড়েছেন। গোটা নাটকে এমন একটিও সংলাপ নেই যা সমকালীন রাজনীতিকে “কোট” করা। অথচ “আন্তিগোনে” হয়ে ওঠে অনেক বেশি সমকালীন। প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত নিষ্ক্রিয় দর্শকরা হয়ে ওঠে নাটকটির সক্রিয় অংশগ্রাহক। কল্পনার জাদুদণ্ডে প্রাণ পায় সমকাল। সমকালের দাবিতে নাটকটি হয়ে ওঠে সমকালীন।

ভালো লাগে হেমনের চরিত্রে শুভ্র সৌরভ দাসের অভিনয়। অন্ধ তেইরেসিয়াসকে(নবনিতা বসু মজুমদার) পৃথিবীর হত্যাযজ্ঞয়ের বর্ণনা দিয়ে চলে এক বালক (ঋদ্ধি সেন)। তবে এ নাটকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধয় রেশমি সেনের অভিনীত আন্তিগোনে চরিত্রটি। রেশমি সেনের আন্তিগোনে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় ক্রেয়নের পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে। নান্দীকারের মূল স্ক্রিপ্ট থেকে নেওয়া আন্তিগোনে-ক্রেয়নের দীর্ঘ সংলাপ… রাষ্ট্রের যুক্তি, পাল্টা যুক্তি… শুনতে শুনতে মনে পড়ে যায় বাত্যজনের “রুদ্ধসঙ্গীতের” কথা, যেখানে দেবব্রত বিশ্বাস বলেনঃ

“ক্ষমতা হচ্ছে ক্ষমতাই… সে তোমারে মারবে আবার নানান ভাবে সেই মারকে Justify করবে”।

মনে ধরে থাকে আন্তিগোনের চারিত্রিক দৃঢ়তা। রাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা থেকে আন্তিগোনের জেদ, তার সঙ্কল্প, অভিব্যাক্তি, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার ভঙ্গিমা এবং সবশেষে তার মৃত ভাইয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা…অতি যত্ন সহকারে চরিত্রটিকে মঞ্চে জন্ম দিয়েছে রেশমি সেন। মুগ্ধ হই আন্তিগোনের লড়াই দেখে, তার একক লড়াই। আন্তিগোনেকে তার বোন ইসমেনে বলে, “রাজা্কে মান্য করাই নিরাপদ”। কিন্তু আন্তিগোনে বার বার মনে করিয়ে দেয় সঙ্ঘবদ্ধ রাষ্ট্র-বিরোধী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা। আন্তিগোনে থাকে তার লক্ষ্যে অবিচল, সে ভেসে চলে ইসমেনের বিপরীতধর্মী স্রোতে। আন্তিগোনে বলেঃ “আমার নির্বুদ্ধিতা নিয়ে আমি একা থাকি, একা। যদি মরি, এ মৃত্যু গৌরবের”।

“কেন আন্তিগোনে?”, কেন? কেন? কেন? বার বার আমি ইতিহাসকে এই প্রশ্ন করি। আনন্দবাজারে প্রকাশিত দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের একটি প্রতিবেদন পড়ে তার কিছুটা উত্তর পাই। “আন্তিগোনে” বাংলার মঞ্চে প্রথম আনে “নান্দীকার”, তারিখটা ২৫ মার্চ, ১৯৭৫। জরুরি অবস্থা। ইন্দিরা গান্ধীর জমানা। চারিদিকে শুধু বারুদের গন্ধ। নান্দীকারের নাটকের বিজ্ঞাপনী স্লোগান ছিলঃ

        “থেবাইয়ের আকাশে শকুন, কলকাতার রাজপথে মৃতদেহও”।

মিলে যায় ইতিহাস ও সমকাল। সালটা ১৯৪৪; হিটলারের রক্তচক্ষু গ্রাস করছে গোটা ইউরোপ। প্যারিসে মুক্তি পেল জ্যঁ আনুইয়ের নবনির্মিত “আন্তিগোনে”। সালটা ১৯৪৮; যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ। ব্রেখট রূপান্তর করলেন সেই “আন্তিগোনে”। কালে কালে, যুগে যুগে, সমকাল প্রশ্ন করে ইতিহাসকে… উত্তর দেয় “আন্তিগোনে”। সিরিয়া থেকে মায়ানমার, কাশ্মীর থেকে উত্তর করিয়া… প্রশ্ন করে সমকাল, উত্তর দেয় “আন্তিগোনে”। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে চোখ চলে যায় এক সতর্ক বার্তায়ঃ

        “You are under CCTV surveillance.”

বাড়ি ফেরার পথে অনেকদিন আগে পড়া আন্তিগোনের উদ্দেশ্যে ব্রেখটের লেখা কবিতাটা মনে পড়ে যায়ঃ

Come out of the twilight
And walk before us a while,
Friendly, with the light step
Of one whose mind is fully made up, terrible
To the terrible.

You who turn away, I know
How you feared death, but
Still more you fear
Unworthy life.

And you let the powerful get away
with nothing, and did not reconcile yourself
With the obfuscators, nor did you ever
Forget affront, and let the dust settle
On their misdeeds.
I salute you!

                                 – সাগ্নিক চক্রবর্তী

Swag, Tiger and Being Secular in Contemporary India

dc-Cover-rpj65lf93phiu98kr3b8k7bjk7-20171124101545.Medi

First things first. I am not a Salman Khan fan. Nor is this meant to be a review of Tiger Zinda Hai. But it does take off from a song of that film which is particularly relevant to the toxic climate of communal hatred in which India is currently shrouded. Throughout the last year there have been hundreds of sporadic incidents of violence perpetrated by the thugs of the Hindutva Brigade including the assaults and murders of people over suspicions of possessing or consuming beef, for belonging to Dalit-Bahujan communities, for simply trying to observe one’s own religion and at times for no apparent reason at all. Consider, for example the recent attack on Christmas Carollers in Satna in Madhya Pradesh. Goons of the Hindutva Brigade attacked them, falsely accused them of forced conversion, burnt the car of priest and to top it all, the police arrested the carollers and the priests without taking any action against the ones responsible for such blatant vandalism. This latest assault is complemented by similar incidents which have happened elsewhere across the country, for example in Aligarh and in parts of Karnataka, as part of a rising trend of such violence which has rapidly increased over the last couple of years. Such events not only signify the increasing threat posed by ever-growing religio-fascist organisations in India but also the shocking callousness of the administration that either actively protects these groups or allows them to continue with their atrocities through sheer passivity. And it is during these occasions that one hopes for a kind of muscular secularism which can actively resist these hooligans by collectively combating their menace with civic volunteer groups of their own in various localities who will stand up to them without either fear or passivity. Candle light vigils and silent marches cannot do much against the shameless and inhuman assaults of those who are far too insensitive and despicable to understand appeals to humanism and compassion. This is where Tiger and his swag come in. In one of the songs of the film we have the protagonists, Tiger and Zoya, Indian and Pakistani respectively, declaring:

Chahe jo aaye leke dil mein ishq mohabbat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

The strength, the courage and the flamboyance symbolised by the characters, both in the original Ek Tha Tiger and this one, are perhaps what is needed by seculars in India who cannot turn any longer the other cheek in hope of a peaceful solution. At times, the best step forward is not just to proudly hold on to your beliefs but also to instil enough fear in those who are trying to terrorize you. At times you need to be assertive enough to show that not only will you not be intimidated but that those who are trying to intimidate you better watch their backs. In other words, you need to be secular with swag.

And this swag is needed not just to ward off the shadow armies of hate that are marauding across the land. But you need it to counter the vicious ideas that are being spewed even by a minister of the central government who recently claimed that secular people are confused about their parentage and that everyone should only identify themselves in terms of their religion and caste. This represents the kind of parochial, unidimensional thinking which is the hallmark of RSS and the current regime. They neither understand the plurality of human identities nor do they have any respect for India’s prolonged tradition of accommodation, hospitality, tolerance and diversity. From the days of the Harappan civilisation, which had active ties with Mesopotamia and Rome, to the age of Ashoka who actually had ministers and bureaucrats that enforced religious tolerance to the glorious heights of the Mughal empire which fostered a syncretic culture that accommodated multiple religious traditions to the Twentieth century visions of Tagore and Ambedkar – India has been a land of acceptance and harmony, something that Bajrangi Bhaijaan also demonstrated interestingly. And when ministers try to negate and distort that history we need to roar with Tiger and claim:

Chahe jo aaye leke dil mein ishq ibadat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

Unless we keep on asserting these values, we will never be able to bring to justice the murderers of Gauri Lankesh or rid India of individuals like Shambhu Lal Regar who murdered in cold-blood a labourer named Mohammad Afzarul from Malda in Bengal and even made a shocking video of it or incarcerate for life those hundreds who are making Shambhu out to be a hero and even collected money to ensure legal assistance for him. Some of these people even dared to take to the streets to protest against his arrest. All of these events are symptomatic of a pervasive and vicious atmosphere of hatred that has been seeping into the fabric of the Indian polity for several years and is leading to a virtually cancerous outbreak of atrocities with the overt or covert support from different branches of regional or central administration. No wonder then that Nathuram Godse is getting a temple in Gandhi’s India while everyone looks the other way even as emboldened supporters of Godse continue to advance their murderous machinations. So do we become martyrs like Gandhi for believing in secular ideas or do we come out swinging, making the spiritual descendants of Godse and Golwalkar quiver in their khaki shorts? For the very sake of our survival as a secular, democratic nation, the latter seems almost indispensable. So this holiday season, wear your santa hats, go to the movies, have your cake and pudding and do all that your heart desires and the constitution approves to spread joy and love, because as Irshad Kamil informs us

Insaan hai insaan jag mein jab tak ishq salamat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

This could well be our New Year motto; let’s put the swag in secular.