এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়?

gfd

হে দুর্লঙ্ঘ ভবিতব্য, এখন তুমিও ঠিক ওইভাবে আমার গলা চেপে ধরে আছো।

মাথা কাটা গেছে, আমি শুধু রক্তটুকু বেরতে দেখার স্বাধীনতা চাইছিপাচ্ছিনা।

                                                “অধীনজয় গোস্বামী

“There will be no loyalty except loyalty towards the party. There will be no love except the love of Big Brother…Always, at every moment; there will be the thrill of victory, the sensation of trampling on an enemy who is helpless. If you want a picture of the future, imagine a boot stamping on a human face forever.”

                                                1984 – George Orwell.

অবাধ্যতা রাষ্ট্রের পতন, অবাধ্যতা সংহতির শত্রুআনুগত্য রাষ্ট্রের রক্ষক, আনুগত্য সৃষ্টি করে নিয়মশৃঙ্খলা।

                         – আন্তিগোনে” – সোফোক্লেস (অনুবাদঃ শিশির কুমার দাস)

 

সপ্নসন্ধানীর “আন্তিগোনে” দেখার পর সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি মনের গভিরে, একেবারে অবচেতনের সাগর থেকে চেতনার বাস্তবতায়ে ভূমিষ্ঠ হয়, তা হল এই থিবেস কোথায়ে অবস্থিত? এ কি গ্রীসের নগরী যার অধিপতি ক্রেয়ন…নাকি এই থিবেস আসলে আমাদের অত্যন্ত পরিচিত এক রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সভ্যতার নিষ্ঠুর উপাখ্যান? রাষ্ট্রের অধিপতি যখন ঠাণ্ডা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে হুকুম দেন “রাষ্ট্র চায়ে আনুগত্য”, তখন প্রশ্ন জাগে যে ক্রেয়নের কণ্ঠস্বর হতে ও কার ধ্বনি ভেসে আসে? মিলে যায়ে ইতিহাস ও সমকাল…সভ্যতার মুখোশগুলো আপনা হতেই খসে পড়ে…কান পাতলেই শোনা যায়ে “ক্রেয়নদের” হুঁসিয়ারী ও সৈন্যদের ভারী বুটের শব্দ… বন্দুকধারীরা বলে ওঠে “সাবধান, রাষ্ট্র কিন্তু নজর রাখছে”।

আন্তিগোনে” দেখব বলে সবে প্রেক্ষাগৃহে পা দিয়েছি, ছুটে এল এক উর্দিধারি নিরাপত্তা-রক্ষী। কালাশনিকভ রাইফেল হাতে বলে ওঠে, অতি পরিচিত হুমকির স্বরে, “নাটক দেখতে এসেছেন না? আমরা কিন্তু সব নজর রাখছি”। প্রেক্ষাগৃহে আসন গ্রহণ করতেই মুখে এসে পড়ে সার্চলাইটের তীব্র দৃষ্টি। প্ল্যাকার্ড হাতে ঘুরে চলে একদল মুখোশধারী। প্রতিটা প্ল্যাকার্ডে বর্ণিত পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত, প্রতিটা মুহূর্তে ঘটে চলা যুদ্ধের দামামা…মিলে যায়ে সিরিয়া ও থিবেস। মঞ্চে স্তূপাকৃতি হয়ে ঝুলতে থাকে মৃতদেহ… মঞ্চ জুড়ে ছড়িয়ে থাকে মৃতদেহ… কাউকে চেনার উপায়ে নেই… দেশ, জাতি, সময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে এরা শুধুই মৃতদেহ… অন্তর হতে কে যেন বলে ওঠে, “এত রক্ত কেন?”। গোটা প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে বাজতে থাকে যুদ্ধের খবর, গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা, ব্লগার হত্যার নির্মম সংবাদ, সাংবাদিকদের হত্যা, অপুষ্টি, অনাহার, বাংলাদেশ, সিরিয়া, সোমালিয়া… একে একে সব মিলে যেতে থাকে… এই দমবন্ধকর, সন্ত্রাস-বিধ্বস্ত, মৃতপ্রায় রাষ্ট্রের মাঝে বেজে ওঠে সাইরেন… শুরু হয় কৌশিক সেনের পরিচালনায় “সপ্নসন্ধানীর” নাটক, “আন্তিগোনে”। মনে পড়ে যায় “হ্যামলেট” নাটকে মারসেল্লুসের সেই বিখ্যাত উক্তিঃ

       “Something is rotten in the state of Denmark.”

আন্তিগোনে হল রাজা অয়দিপাউস ও রানি ইয়োকাস্তার মেয়ে। রাজা অয়দিপাউসের মৃত্যুর পর যতদিন তার দুই সন্তান, এতোয়েক্লেস ও পলুনেইকেস, সাবালক হয়নি, থিবেস রাজ্যের রক্ষাকর্তা ছিল অয়দিপাউসের শ্যালক, আন্তিগোনের মামা ক্রেয়ন। দুই ভাই যখন বড় হল, রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে বাধল তুমুল যুদ্ধ। এতোয়ক্লেসের তরবারি বিদ্ধ করে পলুনেইকেসকে। পলুনেইকেসের অস্ত্রে মৃত্যু ঘটে এতোয়ক্লেসের। ক্রেয়ন ঘোষণা করেন যে এতোয়েক্লেস রাষ্ট্রের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছে, তাই তাকে বীরের সন্মানে ভূষিত ও সমাধিস্থ করা হবে। কিন্তু পলুনেইকেস ধ্বংস করতে চেয়েছিল পবিত্র থিবেস নগরি, তাই তার নগ্ন দেহ হবে শকুনের খাদ্য। পলুনেইকেসের মৃত্যু-শোক পালনেও জারি হয় নিষেধাজ্ঞা। আন্তিগোনে এক মুহূর্তে রাজাজ্ঞা ছুড়ে ফেলে দেয়। আন্তিগোনে ঠিক করে যে সে মর্যাদার সহিত পলুনেইকেসের সৎকার করবে। শুরু হয় রাষ্ট্র ও এক নাগরিকের সনাতন যুদ্ধ। ক্রেয়ন মনে করে যোগ্য নাগরিক তাকেই বলে যে সদা রইবে রাষ্ট্রের অনুগত…যে “যুদ্ধের ঝোড়ো দিনেও রইবে আনুগত্যে অবিচল, বিপদের দিনে বিশ্বস্ত সহযোগী”। রাষ্ট্রের কাঠামোর দিকে আঙ্গুল তোলা মাত্রই আন্তিগোনে রাষ্ট্রের চোখে হয়ে ওঠে অপরাধী,  রাষ্ট্রদ্রোহী, বা আজকের দিনে যাকে বলে Anti-National.

রাষ্ট্র প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রর গন্ধ পায়। রাষ্ট্র চায় অবিচল আনুগত্য, নইলে যে রাষ্ট্রের বড় বিপদ। রাষ্ট্রের চোখে সকলেই সন্দেহের ঘেরাটোপে মোড়া। হঠাৎ যদি কেউ গেয়ে ওঠে “কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়…ওরে ভাই রে…”, রাষ্ট্র অমনি গর্জে উঠে বলে, “ এ গান বন্ধ, এর মুখ বেঁধে ফেলো, হাত পা বেঁধে ফেলো, বেঁধে বনের মধ্যে নিয়ে গিয়ে গর্তের মধ্যে ফেলো”। ক্রেয়নও চায় সম্পূর্ণ আনুগত্য। নাটকের মাঝেই ক্রেয়ন বলে ওঠেন, “পিছনের দিকে ওই ব্যাক্তিটি কে? ওই যে দাড়িয়ে আছেন…” ক্রেয়নের মুহূর্তের নির্দেশে বন্দুকধারী সৈন্যরা দর্শক আসনে এক ব্যাক্তিকে ঘিরে ফেলেন। সার্চলাইট দুটি তাদের খুনে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দর্শক আসনে। দর্শকদের মধ্যে থেকে ভয়ার্ত কণ্ঠে এক ভদ্রলোক চিৎকার করে ওঠেন, “আমি অনুগত; রাজা, আমি আপনার অনুগত”। নিভে যায় সার্চলাইট… দর্শকরা ক্রমশ নাটকের চরিত্র হয়ে ওঠে…ফিকে হয়ে যায় বাস্তব ও কল্পনার মাঝে সীমারেখাটি, ভেঙ্গে পড়ে মঞ্চ ও দর্শক আসনের মাঝে চতুর্থ দেওয়াল। ক্রেয়নের বিশ্বাস যে মানুষের সত্যিকারের পরিচয় তার রাষ্ট্রের নিয়মের প্রতি আনুগত্যে। যদি কেউ রাষ্ট্রের ওপরে স্থান দেন আত্মীয়তা, সেও রাষ্ট্রের চোখে ঘৃণার যোগ্য। নাটকের শুরুতেই লেখা হয়ে যায় আন্তিগোনেদের ভবিতব্য, যা কালে কালে, যুগে যুগে সত্য। মিশে যায় অতীত ও বর্তমান… অনুরণিত হতে থাকে ক্রেয়নদের নিষ্ঠুর ক্ষমতার আস্ফালন,“রাষ্ট্র তোমাদের বন্ধু, রাষ্ট্র চায় আনুগত্য”।

কৌশিক সেনের নাটকে মঞ্চের ব্যাবহার সর্বদাই সৃষ্টি করে এক কাব্যময়তা। মনে পড়ে যায় “প্রথম পার্থ”, “মুখোমুখি বসিবার”, “কর্কটক্রান্তির দেশ”, “দর্জিপাড়ার মর্জিনারা”…। কিন্তু “আন্তিগোনেতে” এই কাব্যময়তাকে দূরে সরিয়ে মঞ্চ জুড়ে স্থান নেয় এক বর্বর, নৃশংস হত্যালিলা। সৌমিক চ্যাটার্জির এমন বীভৎস মঞ্চ, স্তূপাকৃতি মৃতদেহ, ক্রমাগত হিংসার খবর, গৌতম ঘোষের আবহসঙ্গিত, যুদ্ধের আওয়াজ…সমস্ত কিছু মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক নরক যন্ত্রণা্র। মনে পড়ে যায় আন্তনিও আরতাউদের            “থিয়েটার অফ ক্রুয়েলটি্র”(Theatre of Cruelty) কথা। শুধু দুঃখ এই, যে পরিচালক হয়ত মুখোশধারীদের আরও কিছুটা ব্যাবহার করতে পারতেন। অন্যদিকে, কোরাসদের ভুমিকাও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যদিও আমার ব্যাক্তিগত মত যে কোরাসদের সংখ্যা কিছুটা কম হলে মঞ্চে অভিনয়ের স্পেসটা আরও প্রসারিত হতে পারত, হয়ত এতটা ভিড় বা “Crowded” লাগত না।

অভিনয়ে ক্রেয়নের চরিত্রে কৌশিক সেন অসামান্য। কৌশিকের ক্রূর দৃষ্টি, আদেশের ভঙ্গিমা, অঙ্গ সঞ্চালন ও হিংস্রতা, এই সব কিছুর বুননে ক্রেয়ন চরিত্রটি মঞ্চে জীবন্ত হয়ে ওঠে। নান্দীকারের “আন্তিগোনের” কথা মাথায় রেখে বলছি, কৌশিকের অভিনয় অনেক দিন মনে থাকবে। “ম্যাকবেথের” কৌশিক সেনের চেয়ে “আন্তিগোনের” কৌশিক সেনকে, অভিনয় ও পরিচালক, দুই ক্ষেত্রেই লেগেছে অনেক পরিণত। “ম্যাকবেথে” পরিচালক তার সমকালীন সমাজকে প্রায় হুবুহু “কোট” করেন, যেখানে ম্যালকম নাটকের শেষে বলে ওঠে, “দশ বছরের কাজ করতে হবে দশ দিনে”। সালটা ২০১২। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়। কিন্তু “আন্তিগোনেতে” কৌশিক নিজেকে ভেঙেছেন ও গড়েছেন। গোটা নাটকে এমন একটিও সংলাপ নেই যা সমকালীন রাজনীতিকে “কোট” করা। অথচ “আন্তিগোনে” হয়ে ওঠে অনেক বেশি সমকালীন। প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত নিষ্ক্রিয় দর্শকরা হয়ে ওঠে নাটকটির সক্রিয় অংশগ্রাহক। কল্পনার জাদুদণ্ডে প্রাণ পায় সমকাল। সমকালের দাবিতে নাটকটি হয়ে ওঠে সমকালীন।

ভালো লাগে হেমনের চরিত্রে শুভ্র সৌরভ দাসের অভিনয়। অন্ধ তেইরেসিয়াসকে(নবনিতা বসু মজুমদার) পৃথিবীর হত্যাযজ্ঞয়ের বর্ণনা দিয়ে চলে এক বালক (ঋদ্ধি সেন)। তবে এ নাটকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বোধয় রেশমি সেনের অভিনীত আন্তিগোনে চরিত্রটি। রেশমি সেনের আন্তিগোনে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় ক্রেয়নের পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে। নান্দীকারের মূল স্ক্রিপ্ট থেকে নেওয়া আন্তিগোনে-ক্রেয়নের দীর্ঘ সংলাপ… রাষ্ট্রের যুক্তি, পাল্টা যুক্তি… শুনতে শুনতে মনে পড়ে যায় বাত্যজনের “রুদ্ধসঙ্গীতের” কথা, যেখানে দেবব্রত বিশ্বাস বলেনঃ

“ক্ষমতা হচ্ছে ক্ষমতাই… সে তোমারে মারবে আবার নানান ভাবে সেই মারকে Justify করবে”।

মনে ধরে থাকে আন্তিগোনের চারিত্রিক দৃঢ়তা। রাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা থেকে আন্তিগোনের জেদ, তার সঙ্কল্প, অভিব্যাক্তি, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার ভঙ্গিমা এবং সবশেষে তার মৃত ভাইয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা…অতি যত্ন সহকারে চরিত্রটিকে মঞ্চে জন্ম দিয়েছে রেশমি সেন। মুগ্ধ হই আন্তিগোনের লড়াই দেখে, তার একক লড়াই। আন্তিগোনেকে তার বোন ইসমেনে বলে, “রাজা্কে মান্য করাই নিরাপদ”। কিন্তু আন্তিগোনে বার বার মনে করিয়ে দেয় সঙ্ঘবদ্ধ রাষ্ট্র-বিরোধী আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা। আন্তিগোনে থাকে তার লক্ষ্যে অবিচল, সে ভেসে চলে ইসমেনের বিপরীতধর্মী স্রোতে। আন্তিগোনে বলেঃ “আমার নির্বুদ্ধিতা নিয়ে আমি একা থাকি, একা। যদি মরি, এ মৃত্যু গৌরবের”।

“কেন আন্তিগোনে?”, কেন? কেন? কেন? বার বার আমি ইতিহাসকে এই প্রশ্ন করি। আনন্দবাজারে প্রকাশিত দেবশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের একটি প্রতিবেদন পড়ে তার কিছুটা উত্তর পাই। “আন্তিগোনে” বাংলার মঞ্চে প্রথম আনে “নান্দীকার”, তারিখটা ২৫ মার্চ, ১৯৭৫। জরুরি অবস্থা। ইন্দিরা গান্ধীর জমানা। চারিদিকে শুধু বারুদের গন্ধ। নান্দীকারের নাটকের বিজ্ঞাপনী স্লোগান ছিলঃ

        “থেবাইয়ের আকাশে শকুন, কলকাতার রাজপথে মৃতদেহও”।

মিলে যায় ইতিহাস ও সমকাল। সালটা ১৯৪৪; হিটলারের রক্তচক্ষু গ্রাস করছে গোটা ইউরোপ। প্যারিসে মুক্তি পেল জ্যঁ আনুইয়ের নবনির্মিত “আন্তিগোনে”। সালটা ১৯৪৮; যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ। ব্রেখট রূপান্তর করলেন সেই “আন্তিগোনে”। কালে কালে, যুগে যুগে, সমকাল প্রশ্ন করে ইতিহাসকে… উত্তর দেয় “আন্তিগোনে”। সিরিয়া থেকে মায়ানমার, কাশ্মীর থেকে উত্তর করিয়া… প্রশ্ন করে সমকাল, উত্তর দেয় “আন্তিগোনে”। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে চোখ চলে যায় এক সতর্ক বার্তায়ঃ

        “You are under CCTV surveillance.”

বাড়ি ফেরার পথে অনেকদিন আগে পড়া আন্তিগোনের উদ্দেশ্যে ব্রেখটের লেখা কবিতাটা মনে পড়ে যায়ঃ

Come out of the twilight
And walk before us a while,
Friendly, with the light step
Of one whose mind is fully made up, terrible
To the terrible.

You who turn away, I know
How you feared death, but
Still more you fear
Unworthy life.

And you let the powerful get away
with nothing, and did not reconcile yourself
With the obfuscators, nor did you ever
Forget affront, and let the dust settle
On their misdeeds.
I salute you!

                                 – সাগ্নিক চক্রবর্তী

Advertisements

Swag, Tiger and Being Secular in Contemporary India

dc-Cover-rpj65lf93phiu98kr3b8k7bjk7-20171124101545.Medi

First things first. I am not a Salman Khan fan. Nor is this meant to be a review of Tiger Zinda Hai. But it does take off from a song of that film which is particularly relevant to the toxic climate of communal hatred in which India is currently shrouded. Throughout the last year there have been hundreds of sporadic incidents of violence perpetrated by the thugs of the Hindutva Brigade including the assaults and murders of people over suspicions of possessing or consuming beef, for belonging to Dalit-Bahujan communities, for simply trying to observe one’s own religion and at times for no apparent reason at all. Consider, for example the recent attack on Christmas Carollers in Satna in Madhya Pradesh. Goons of the Hindutva Brigade attacked them, falsely accused them of forced conversion, burnt the car of priest and to top it all, the police arrested the carollers and the priests without taking any action against the ones responsible for such blatant vandalism. This latest assault is complemented by similar incidents which have happened elsewhere across the country, for example in Aligarh and in parts of Karnataka, as part of a rising trend of such violence which has rapidly increased over the last couple of years. Such events not only signify the increasing threat posed by ever-growing religio-fascist organisations in India but also the shocking callousness of the administration that either actively protects these groups or allows them to continue with their atrocities through sheer passivity. And it is during these occasions that one hopes for a kind of muscular secularism which can actively resist these hooligans by collectively combating their menace with civic volunteer groups of their own in various localities who will stand up to them without either fear or passivity. Candle light vigils and silent marches cannot do much against the shameless and inhuman assaults of those who are far too insensitive and despicable to understand appeals to humanism and compassion. This is where Tiger and his swag come in. In one of the songs of the film we have the protagonists, Tiger and Zoya, Indian and Pakistani respectively, declaring:

Chahe jo aaye leke dil mein ishq mohabbat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

The strength, the courage and the flamboyance symbolised by the characters, both in the original Ek Tha Tiger and this one, are perhaps what is needed by seculars in India who cannot turn any longer the other cheek in hope of a peaceful solution. At times, the best step forward is not just to proudly hold on to your beliefs but also to instil enough fear in those who are trying to terrorize you. At times you need to be assertive enough to show that not only will you not be intimidated but that those who are trying to intimidate you better watch their backs. In other words, you need to be secular with swag.

And this swag is needed not just to ward off the shadow armies of hate that are marauding across the land. But you need it to counter the vicious ideas that are being spewed even by a minister of the central government who recently claimed that secular people are confused about their parentage and that everyone should only identify themselves in terms of their religion and caste. This represents the kind of parochial, unidimensional thinking which is the hallmark of RSS and the current regime. They neither understand the plurality of human identities nor do they have any respect for India’s prolonged tradition of accommodation, hospitality, tolerance and diversity. From the days of the Harappan civilisation, which had active ties with Mesopotamia and Rome, to the age of Ashoka who actually had ministers and bureaucrats that enforced religious tolerance to the glorious heights of the Mughal empire which fostered a syncretic culture that accommodated multiple religious traditions to the Twentieth century visions of Tagore and Ambedkar – India has been a land of acceptance and harmony, something that Bajrangi Bhaijaan also demonstrated interestingly. And when ministers try to negate and distort that history we need to roar with Tiger and claim:

Chahe jo aaye leke dil mein ishq ibadat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

Unless we keep on asserting these values, we will never be able to bring to justice the murderers of Gauri Lankesh or rid India of individuals like Shambhu Lal Regar who murdered in cold-blood a labourer named Mohammad Afzarul from Malda in Bengal and even made a shocking video of it or incarcerate for life those hundreds who are making Shambhu out to be a hero and even collected money to ensure legal assistance for him. Some of these people even dared to take to the streets to protest against his arrest. All of these events are symptomatic of a pervasive and vicious atmosphere of hatred that has been seeping into the fabric of the Indian polity for several years and is leading to a virtually cancerous outbreak of atrocities with the overt or covert support from different branches of regional or central administration. No wonder then that Nathuram Godse is getting a temple in Gandhi’s India while everyone looks the other way even as emboldened supporters of Godse continue to advance their murderous machinations. So do we become martyrs like Gandhi for believing in secular ideas or do we come out swinging, making the spiritual descendants of Godse and Golwalkar quiver in their khaki shorts? For the very sake of our survival as a secular, democratic nation, the latter seems almost indispensable. So this holiday season, wear your santa hats, go to the movies, have your cake and pudding and do all that your heart desires and the constitution approves to spread joy and love, because as Irshad Kamil informs us

Insaan hai insaan jag mein jab tak ishq salamat

Sabko gale laganaa apni culture ki hai aadat.

Swag se karenge sab ka swagat.

This could well be our New Year motto; let’s put the swag in secular.

 

THE LEGACY

INHERITANCE

 

In the absence of wealth

Our mothers passed down to us

Stifled teardrops and

Gleaming beads of sweats.

 

We cradled them in our beings

Turning them into crystal balls

To gaze through

At

Our submarined sorrows with.

And found credential there

For all our pains.

 

STILL LIFE

 

Had I sprouted wings at the first thaw of innocence

Instead of measly breasts and clumsy hips

I might have learnt the intricacies of flight.

As it is I can only shuffle my feet

Forward.

And now

Not even that,

What with

November still

Breathing half bitten stories

My way.

 

WANDERLUST

 

Where I come from

All the girls, they

Know too well

The stilting security of oppression

The cruel confinement of comfort

And a word for it-

Home.

 

Our mothers taught us

The shade of the sky

From a box of crayons

And went back to the kitchen

Where they had left the darkness

Boiling on the stove.

 

We were left to trace out the map of the world

On our parched, earthen stretches of skin.

The salt of the sea in the moistening of our eyes

The fresh air of hill stations trapped between our lips.

Cliffs on our torsos, the precarious  game of holding on

And the wild forests of desire between our legs

We dare not explore.

 

They closed the curtains on us

Dressed up ignorance in a veil

Called it protection, called it shame.

But with the sunshine so insistent

How could we emerge unscathed

Or anything but well versed

In the ways of infinity?

-Madhubrata Bhattacharya

 

ঈশ্বর
 
নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়ে
মেঘের মত স্বর, 

a1f5e1561060dac46411824675d38241--salvador-dali-paintings-salvador-dali-museum.jpg

ব্যথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়েন

আমার ঈশ্বর।
 
ঘুমের ফাটল চুইয়ে ঢোকে
মনকেমনের রেশ।
 
নাবিক আমার ঈশ্বর
পড়ে যীশুর ছদ্মবেশ,
 
জলের উপর স্বপ্নে হাঁটেন
নেশায় হয়ে চুড়।
 
ভগ্ন গীটার বাজিয়ে চলে,
হ্যালেলুয়ার সু্র ।
 
ভ্রষ্ট পথিক ঈশ্বর মোর
নষ্ট প্রভু আমার,
 
‘সো লঙ’ বলে হারিয়ে গেলেন
অন্ধকারের পার।
 
চেলসি হোটেল, ক্লিনটন স্ট্রিট
কিংবা ম্যানহাটন,
 
স্মৃতির ঘরে অপেক্ষাতে
ন্যান্সি, ম্যারিয়ান।
 
একটা মানুষ, এক খানি গাছ
আমার আশ্রয়,
 
চোখের সামনে দেখতে পেলাম
ঈশ্বরের-ই ক্ষয়।

 

ঈশ্বর তবু স্বপ্ন দেখান
‘ফ্রিডম সুন উইল কাম’।
আমার প্রিয় মৃত ঈশ্বর,

লেনার্ড কোহেন নাম।

 -Rohan Hassan

 

cd6b51d766cb0e38a5771c34fb847f8b.jpgগান ক্যাফে

 মনের কোনে ক্লান্ত ক্যাফে
লেনার্ড কোহেন এর গান শুনে
নভেম্বর  হাঁফিয়ে ওঠে
ডিসেম্বর এর দিন গুনে।

 রাতের চাদর আঁকড়ে ধরি
তোমার শরীর সব বোঝে
অ্যাটলাস  তোমার আঙ্গুল রেখে
নাবিক যে তার পথ খোঁজে।

 

বন্দরে আজ জাহাজ শান্ত

রাতের আকাশ মদের ঠেকে,

বিকেলের ছাদ ঘুমিয়ে আছে

লেনার্ড যখন কবিতা লেখে।

 আমার আকাশতোমার আকাশ
মিলে মিশে একসাথে
পকেটে মেঘের খুচরো রাখি
তারার ধুলো ফুটপাথে।

 তিনিও নাকি প্রেম করেছেন

চাঁদ কেটেছেন ব্লেড দিয়ে

গলার স্বরে তুফান ওঠে

তুফান থামান গান দিয়ে।

মন  নাকি খারাপ হয়

শীতকালও নাকি রাগ করে

কোহেন এর নাম প্ল্যাটফর্ম  লেখা

সুইসাইড  তার নাম জানে।

নদীর স্রোতে ভাসে পালক

রাতের  নাকি বাঁধ ভাঙে

কবিতারা নাকি আজও মাতাল

লেনার্ড কোহেন এর নাম ধরে।

 -Sayan Aich

Leonard Cohen and the Name-of-the-Father

“I asked my father,
I said, ‘Father, change my name!’
The one I’m using now, it’s covered up
With fear, and filth, and cowardice and shame.”
– Lover Lover Lover
To look at Leonard Cohen’s music and poetry is to look at a tapestry of themes and recurrent preoccupations. Volumes upon volumes of articles have been written, interviews have been conducted, and statements have been offered by generations of inspired songwriters about Cohen’s treatment of religion, of love, of politics, of sexuality, and of a number of other issues that his lyric has often engaged with. One recurrent theme that has haunted this beautiful man since the first conceptions of his poetry, though, has been the image of his father. This article offers a brief discussion of that, in the hope that this would perhaps open up room for more enriching dialogue in this context.
maxresdefault
Traditionally, the eldest son in the Cohen family would be given a name whose initial letter was ‘L.’ Leonard’s great-grandfather, who first emigrated to Canada when she was still a young country (only two years after the independence), was named Lazarus. His eldest son was likewise christened Lyon. Our own songwriter, being the firstborn son himself (preceded only by an elder sister, Esther), was of course named Leonard. However, in a peculiar breach of tradition, Lyon named his eldest son Nathan, while the ‘L’-name was graciously bestowed upon a younger child, Lawrence. As to why Lyon Cohen chose to break with family tradition, one can only guess. However, in the context of inheritance, or rather, a perceived denial of the same, this aberration in the tradition of naming was perhaps a strange foreshadowing.
Passionately Jewish and fiercely nationalistic, Lyon Cohen was one was the most important members of the early Jewish community in Montreal, Canada. He staunchly believed in the value of loyalty, and urged his sons Horace and Nathan to go fight in the war for “the land, the country, and the king” (Lawerence, too young at the time, was thankfully spared the experience). Horace came home in one piece, but Nathan was not so lucky. He returned to Montreal a cripple, and his ailment would haunt him, body and mind, for the rest of his life. Leonard’s cynical, somewhat disillusioned songs on war perhaps find some matter in this experience of his father’s.
“I fought in the old revolution
On the side of the ghost and the king.
Of course I was very young,
And I thought that we were winning.
I can’t pretend I still fell very much like singing
As they carry the bodies away,
Into this furnace I ask you now to venture,
You who I cannot betray.”
Old Revolution
Nathan’s disability kept him bedridden for months at a time. As a result, most of the responsibility of running the Cohen family was taken up by his wife Masha Klinitsky-Klein. It was Masha that the two eldest children, Esther and Leonard, grew closest to in their early years. This does not mean, of course, that Leonard had nothing to do with his father. The two of them would sometimes speak; of history, of literature, of the Jewish identity. The first person our young songwriter witnessed playing a guitar and singing was a friend of Nathan’s; a gentleman who worked for a Canadian worker’s union. Many years later, Cohen would jokingly comment in an interview that in those days, only communists played the guitar.
Nathan had always been a quiet man, reticent and thoughtful despite the flourishing business his family owned. This unassuming nature of his, coupled with his disability, ensured that the immense responsibility of handling his family’s business was not handed to him. His brothers, Horace and Lawrence, were the social and public faces of the Cohen family business, to Nathan went the far less colourful duty of supervising the factory. It doesn’t seem, though, that Nathan was particularly unhappy about this arrangement, the workers at the factory were reasonably fond of the quiet, unassuming man, and they got along well.
Although Judaism is thankfully devoid of the disturbing caste system that certain faiths allow, traditionally the ‘Cohens’ are the priests of the community. They have the honour of the leading their peers into prayer, into songs of faith. Traditionally, the firstborn son of the Cohen family is the recipient of this honour, but Nathan, as I mentioned, was never really considered the eldest in the family despite his status as firstborn. Did this raise certain inescapable questions for Leonard, who had been brought up surrounded by the images, structures, and even rigours of Judaism? If the father is denied his role as firstborn, where does that leave the son, HIS own firstborn? Have the uncles, then, usurped the father’s designated role in their own personal history? And if they have, where does Leonard stand in the bewildering expanse of that history? His poetry, as his songs, has often shouldered the weight of such questions.
“Besides the brassworks my uncle grows sad,
Discharging men to meet the various crises.
He is disturbed by greatness
And may write a book.
My father died among old sewing machines,
Echo of bridges and water in his hand.
I have his leather books now,
And startle at each uncut page.”
– Spice Box of the Earth
Elsewhere in his poetry, Cohen has returned to this moment of loss, the particular instance of his father’s death, with even greater urgency.
“Bearing gifts of flowers and sweet nuts
The family came to watch the eldest son,
My father.
And stood about his bed
While he lay on a blood-sopped pillow,
His heart half-rotted,
And his throat dry with regret.
And it seemed so obvious, the smell so present,
Quiet so necessary,
But my uncles prophesied wildly,
Promising life like frantic oracles;
And they had only stopped in the morning,
After he had died,
And I had begun to shout.”
 Let Us Compare Mythologies
His uncles, of course, had become captains of the Cohen family ship even before Nathan’s death, and Leonard sees himself inheriting little more than his father’s “leather books” in his passing. Of course, neither of Leonard’s uncles resembled the archetypal evil, usurping Claudius of folk and romance literature. Lawrence, in particular, was gracious and very concerned about Leonard’s future. He decided to sponsor Leonard’s education at the MacGill University when the latter failed to secure a scholarship. And yet, a peculiar grief and anger has haunted Leonard throughout most of his life; why did his father not explain to him what role he was inheriting from him? Why did he leave him, above all, confused?
I believe Leonard could never quite put a finger on who his father really was. In the structured hierarchy of his Jewish family, his father’s position was always precarious, and this lack of coherence has offered Leonard question after question which he has often attempted to answer in his literature. In the first novel of his career, The Favourite Game, Leonard Cohen asks himself this question. Even in deeply personal questions of his own identity, his own position, he asks, “why was my father’s pain so involved?” In Leonard’s eyes, Nathan’s image was never quite clear. And this urged him, time and again, to try and reach out to his father through a variety of familiar images by which he sought to define him; the image of Jesus Christ, the image of the forsaken soldier, the image of Abraham.
“The door it opened slowly,
My father he came in,
I was nine years old.
And he stood so tall above me,
His blue eyes they were shining,
And his voice was very cold.
He said, “I’ve had a vision,
And you know I’m strong and holy,
I must do what I’ve been told.”
So he started up the mountain,
I was running, he was walking,
And his axe was made of gold.”
– Story of Isaac
Nathan, the firstborn Cohen, was still denied of his traditional responsibility to be the priest of the community, as Leonard perceived it. And, as Clive Rawlins asks in a comprehensive biography of Leonard’s, “When the priest cannot function as a priest, is he bound to become prophet?
-Kabir Chattopadhyay

Leonard Cohen : In Memoriam

অক্টোবর ২২, ২০১৬

(কোহেনের শেষ অ্যালবাম শুনে)

Leonard-Cohen-leonard-cohen-5540907-1600-1200-1024x768.jpg

 

লিওনার্ড কোহেন আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ডিলানের চাইতে বেশি আপন (আহা, এই মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বাইনারিটিতে বোধহয় শুধু বাঙালিরা দুষ্ট নয়) যেভাবে জঁ-লুক গোদার আমার কাছে অনেক বেশি আপন তিনিও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম চলচ্চিত্রকার না হলেও। না গোদার শ্রেষ্ঠতম নন, তিনি অনেকক্ষেত্রে মুখ থুবড়ে পড়েন, কিন্তু সেজন্যই তো, সিনেমাকে তার সীমানা থেকে পেরিয়ে নিয়ে যেতে হয়ই কান টেনে, ঘাড় ধরে – না হলে সিনেমা ব্যক্তিগত বা অভিপ্রেতর কাছাকাছি যাবে কি করে? আমার কাছে আশি পেরোনো গোদার এখন – আসলে চিরকালই – আবেগসর্বস্ব মানুষ, যার নিজের আবেগকেই সম্মুখীন হওয়ার ভয়ে মেধার দেয়াল তৈরি করেন। ভাগ্যিস করেন, নাহলে সিনেমার সবচেয়ে সাহসী নিরীক্ষাগুলো আমরা দেখতে পেতাম না (খুব কম লোকেরই সে সাহস আছে, কনসিস্টেন্টলি নিরীক্ষা করার) – আশিতেও তরুণতম থাকতেন না।

লিওনার্ড কোহেনের আশি পেরিয়েও সেই ভয় নেই, নিজের আবেগের সম্মুখীন হওয়ার। সে তো তিনি শুরু থেকেই হয়ে আসছেন। পৌরুষকে, সত্ত্বাকে নির্মমতম এক্স-রে’র রশ্মিতে যদি কেউ ঝাঁঝরা করতে জানেন তার নাম লিওনার্ড কোহেন – যার কঙ্কাল তার কাব্যের মত নিরাবরণ ও সুন্দর। তিনি নিজের আবেগের, ভঙ্গুর অস্তিত্বের মুখোমুখি দাঁড়ান যেভাবে জনশুন্য ওয়াইল্ড ওয়েস্ট টাউনের পথের দুপ্রান্তে ডুয়েলে প্রতিদ্বন্ধ্বীরা। তিনি জানেন তার ভঙ্গুর অস্তিত্ব আগে হোলস্টারমুক্ত করবে রিভলবার, অথচ তিনিই বিদ্যুতগতিতে হবেন অব্যর্থ। নিজের আবেগের লাস পেরিয়ে যাবেন তিনি, নিজের অস্তিত্ত্বের লাসের দিকে এক লহমা তাকিয়ে টুপিটা খুলে নেবেন। কোহেনকে আবেগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য মেধার দেয়াল তৈরি করতে হয়না। তার গন্তব্য আবেগ থেকে নিরাবেগের দিকে।

You Want it Darker সেই মৃত্যুপরবর্তী নিরাবেগ নিরাসক্তিতে আচ্ছন্ন। সেই কবে Tower of Song-এ নিজের সার্টিফিকেট লিখেছিলেন তিনি I was born like this, I had no choice, I was born with the gift of a golden voice, এই অ্যালবামে নিজেকে নিয়ে সেরকম appraisal নেই। কবিত্ব বা গান নিয়ে কোনো ফিরে দ্যাখা নেই – এই অ্যালবামে এক নতুন প্রতিদ্বন্ধী, নতুন প্রেমিকা, নতুন সম্রাট, নতুন আততায়ীর সাথে তার মোলাকাত।

একবার মনে হবে তার নাম মৃত্যু, একবার মনে হবে ঈশ্বর – আসলে দুইজনেই – আবার আসলে তিনি নিজেও, আসলে এই মৃত্যুরূপী, ঈশ্বরপ্রতিম, নিকটতম আগন্তুক তিনি নিজেই। অর্থাৎ, আবার রাস্তার দুধারে হোলস্টারে রিভলবার নিয়ে দুইজন দাঁড়িয়ে – কবি ও কবির ভঙ্গুর অস্তিত্ব। শুধু এইবার অস্তিত্ব কবির হৃদয়ে অন্তিম বুলেটটি পাঠিয়ে দেবেন, তারপর দায়হীন, নিরালম্ব, হালকা, মুক্ত অস্তিত্ব – যার রিভলবারে একটি বুলেটই ছিল – কবির রিভলবারটি পরম আদরে তুলে নেবে। যেখানেও একটিই বুলেট অবশিষ্ট থাকার কথা। আততায়ীর আর কাউকে হত্যা করার নেই।

তারপর সেই বুলেটের সামনে গানের অপারে, কবিতার অপারে গিয়ে সেই অস্তিত্ত্ব বসবেন, আর বলবেন – তার কন্ঠে সুর অনেকদিনই বিগত, তার অমোঘ ব্যারিটোনে এখন নিটোল উচ্চারণ শুধু –

I’m sorry for the ghost I made you be

Only one of us was real – and that was me.

 

নভেম্বর ১১, ২০১৬

(কোহেনের তিরোধানের পর)

বলেছিলেন, গায়কের মৃত্যু অবধারিত – the singer must die – অথবা, মৃত্যু দন্ডিত হয় তার। কাল যার মৃত্যু হল, তাকে কেউ দন্ডিত করেনি। ইউএসএ-তে ডেমোক্রেসি এলো, তখন চলে গেলেন একজন – আমেরিকাতেই। তিনি ফেরারী হলেন।

কবির মৃত্যু হয়। ফুরিয়ে যাওয়া শিরা থেকে নিংড়ে নেওয়া এক একটি শব্দ বেরোলে মৃত্যু তো হওয়ারই কথা। এক একটা শব্দ বসতো রক্তের ফোটার মত – অমোঘ, অথচ শিশিরের মত ছেনালি তার, রোদ উঠলে উবে যাওয়ার হুমকি। সে সব শব্দ, ফেরারী হল।

সে তো কবির কথা। রিক্ত ভক্ত কি নিয়ে থাকবে? অশ্লীলের হুংকারে, ক্ষমতার ভাষার এ কোন কোলাহলে রেখে গেলে – কবি আমার? ঈশ্বর আমার?

সুর তো কন্ঠ থেকে কবে থেকেই ফেরারী হচ্ছিল, খান দেড়েক নোট লাগতো কন্ঠে। সেই কবে থেকেই তো কিন্নরীদের ভাঙা কাঁচের মত রিনরিন তাকে ঠেকনা দিয়ে রাখতো, যেভাবে কবিকে ধারণ করে রেখেছিলেন তার আজীবনের সঙ্গিনীরা। গায়ক যখন বৃদ্ধতর, তখন লিওনার্ড কোহেন ছিলেন শুধু উচ্চারণ, উচ্চারণই অস্তিত্ব।

অমোঘ ব্যারিটোন! যেভাবে তিনি ‘নেকেড’ বলতেন স্বেচ্ছায় নারীরা বসন খুলে দিতেন সেই কন্ঠ দেখবে বলে; যেভাবে তিনি ‘লর্ড’ বলতেন ঈশ্বর স্থানু হয়ে যেতেন নতজানু সেই কন্ঠের সামনে; যেভাবে তিনি ‘লাভার’ বলতেন আনমনাদের মাথা ঘুরে যেত সেই ডাকের দিকে। তার কন্ঠ, উচ্চারণ – অস্তিত্ত্ব হয়ে যেত শব্দময়। অস্তিত্ত্ব ফেরারী হল।

রিক্ত জীবিত এই রক্তময় বধিরতায় কি নিয়ে থাকবে – চিরজীবিত আমার? প্রেমিক আমার?

গানের আড়ালে রগড় শোনা যায়। যেতাম না – তিনি বলেন – বন্ধ হয়ে গেল যে সরাইখানা? বারটেন্ডার আরেক পেগ দিলে কি নিতাম না? মহিলা যদি আরেকটি কলি শুনতে চাইতেন, কপটে বলতেন সেরকম হয়নি – বাঁধতাম না আবার? ‘সেরকম’ই তো খুঁজে চলেছি। স্যাক্সোফোনিস্ট যদি বলতেন পর্দা মিলছে না – গলা খাকরিয়ে চেষ্টা করতাম না ফের? কিভাবে যাবো? গত কত দশক ধরেই তো প্রতি মুহূর্তে নাগরিক কোনো নিরালায় কোনো এক শ্রান্ত নারী বলতো – লিওনার্ড, যেখানেই থাকো, বলো – নেকেড, লর্ড, লাভার – এক পল’ও বিরাম পাইনি; আদেশ দিলে বিরাম হারাম হয় না কন্ঠের ক্রীতদাসের? কিভাবে যাবো? যদি একটি’ও মুহূর্ত আসে, যখন কোথাও, কোনো নাগরিক নারী নিরালায় বলছেনা – কোহেন, বলো … এক দন্ড, দু’দন্ড দেখে চলে তো যেতেই হবে যদি তারা অন্যরকম আনমনা হয়। এক লহমায় তাই হল কি? প্রেমিক ফেরারী হল।

রিক্ত পুরুষ হয়ে, আপনার উচ্চারণের অযোগ্য আকাঙ্খী নিমিত্ত হয়ে, লিওনার্ড হেটেরো ফাকার কোহেন – কি নিয়ে থাকবো তাহলে? এ কোন অতৃপ্তের কামনার বাজারে রেখে গেলে – পুরুষ আমার? বৃদ্ধ আমার? ম্যানহাটান নেওয়ার কথা ছিল, বার্লিনও।

ফিসফিস করে বলেন কোহেন – এ তোমাদের আজব ভ্রম! কাকে ফিরিয়েছি? সঙ্গিনীকে নিয়ে গান বেঁধেছি, তুমি গান হয়ে ওঠোনা কেন তাদের? নারীই ঈশ্বর, ঈশ্বরই ভালোবাসা, ভালোবাসাই মৃত্যুসমান। সভ্যতার গায়ে ফর্মালডিহাইডের গন্ধ, জ্যাজ ক্লাবে শেষ বুগি নাইট – বাইরে প্রস্তুত সশস্ত্র সেনানী – তোমার জন্য দ্বার বন্ধ আছে কি? এসো। সংরক্ষিত লাসের রাসায়নিক গন্ধের শরীরগুলো বাইরে নিথর; তৃপ্ত রমনের, শ্রান্ত নৃত্যের ঘামের গন্ধ ওরা সহ্য করতে পারেনা – তাও ওরা নিথর বাইরে, আদেশের আগে বুলেট ছুটবেনা। তাতে কি শেষ ওয়ালৎজ বন্ধ আছে ভেতরে? এই যে বৃদ্ধ রসিক তাদের মৃত্যুভয় জয় করার গান শোনাচ্ছে, যে গায়ক দন্ডিত – তোমার পৌরুষ কি তা শোনার অন্তরায়? কে বলেছে তোমার জন্য গাইনা? স্বয়ংক্রীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সেইসব সেনানী আদেশ পেলে গেটক্র্যাশ করবে, অথচ স্বয়ংক্রীয় নয় তাদের শরীর, তোমার শরীরে তো নাচ হয়? মুক্ত হওনা কেন তা’লে?

সৈন্য অপারেশন শেষ হলে দেখবে সভ্যতার আন্ডারগ্রাউন্ড জ্যাজক্লাবে কোনো কোহেনের লাস নেই। কোহেন ফেরারী।

এ কোন নির্বান্ধবে রিক্ত করে গেলে, বন্ধু আমার? বৃদ্ধ ব্যারিটোন ফিসফিস করে বলে – কিন্নরীরা যখন রিফ্রেন গাইছেন বাতাসে – নিকটতম স্পর্শ খোঁজো, নিকটতম শ্বাস, এখনো চুম্বন বাকি হাজার হাজার!

 

-অনিন্দ্য সেনগুপ্ত

Memory and Tradition

 

ba54039ce3faf44df0b546167479ca10.jpg

One of the very first memories I have of Jagadhatri Pujo at my paternal home is of an evening the idol had arrived. We were sitting and making decorations for the festivities. A phone call came. And the news of my 13 year old student’s death was transpired. The other bit of memory that I have is that of a very difficult discussion that took place between me and my parents about why a girl shouldn’t be allowed to become the representative of the family as part of the rituals.

In the seeming inertia of memory there is much movement. The coniferous tree reproduces by cones and depends on the movement of the wind and insects to catalyse the process. In the absurdity of remaining evergreen, life cycle keeps happening. There is motion in the inertia of colours. Similarly, memory is an active agent in our lives. It is not only an event, a thing, or an emotion that happened in the past. The reality of the past is sieved through time and the essence of memory becomes that of longing. In keeping with the polyphonic dimensions of memory and time, neuroscientists now believe that every time a memory is recalled, it changes. That makes it fallible and false memories may be things we should start to acknowledge. The best part of memory being mouldable is that it leads us to art and craft. The act of creating an art transpires the true story to it. In the act of writing this piece, I try to capture the memory of a household soaked in tradition as much as I want to harness the self as the carrier of such memory.

***

In addition to the joy that the pujo inadvertently brings, the memory of the 13 year old student of mine never leaves the mind. He was a tall, dark boy with bright, mischievous eyes. He used to study history with me. His life ended in an accident, when he fell off from a moving bus and suffered haemorrhages in the brain. Jagadhatri pujo brings back the image of the swelling in his head wrapped in neat turns of white bandage. I never went to visit him in the hospital.

The difficult conversation that I had earlier mentioned is another recurrence that Jagadhatri pujo brings every year. My memory of the incident is vague but I do remember the point of difference that we perched on. In our conservative Brahmin family, questioning was never the preferred mode of functioning. And boy I did have a lot of questions! It was paramount for me to ask the difficult questions no matter the outcome. And so I did. In the given circumstances, I believed my family was prejudiced against the female and I shared my opinion unhindered. Every pujo of the goddess is still a celebration of the female for me on the one hand, and on the other, a reminder of the limitations of the female body.

Questions about the purity and the celebration of the body have been areas of concern growing up in that conservative Brahmin household. The sense of awareness of the body has increased over the years,  partially due to yoga. However, it is with my recent Tai chi experiences, that I have increasingly become aware of the body as a container of the energy, the qi. This awareness now extends to involve the energy around me as well. Something perceived as a negative emotion or physical ailment is starting to look like the workings of the energy.

The building of memory is like an exercise with energy. It can be an active process to build negative events with a positive tenor of the mind, thus channelling the energy. This makes the press and the push of the Ying and the Yang a very credible thing.

***

Immunity of the mind is called resilience. It is the quality of the subject to spring back into life even after setbacks. What does resilience do to memory building, I often wonder? Since memory is like a fiction, with every retelling a part is added or deleted, does resilience impact memory creation? The retelling of the death of that 13 year old student of mine somehow has not been able to decrease the grief of his death or the guilt of not visiting him in the hospital. But what the years have done is to gradually fade the memory of his face, to the extent that I think of his face as a living person’s face.

Does that even make any sense?

***

An orthodox family knits tradition to keep the semblance of order unquestioned. Joy joins in the ranks of order unaccountably. It is like the breeze-aspired weeping willows. In the momentum of the wind, the tree finds a freedom that was uncalculated and undocumented. In the web of traditional rites and rituals, the joy of working together, sharing an event slowly gather importance. And the definition of tradition shifts from being an oppressive act to an act of benevolence. The Jagadhatri pujo in my paternal house has somehow crossed the line and is now a celebration of togetherness as much as it is the worship of a goddess.

***

It is ironical maybe that an event that had seemed problematic, identity-wise, given that my parents and I harbour very different opinions about the role of the female in the ritual of the pujo, is the cause of depression a decade later. What is it that makes a family pujo a matter worthy of causing depression? Is it the rites and rituals that give a sense of discipline and calm? Or, is it the act of meeting family and friends that is missed?

I come to the honest confession that it is neither. It is the sense of being part of a tradition that espouses togetherness and hence bestows upon postmodern souls like this Grazer a distant but crisp sense of rootedness. It is an idea that memory, immunised from time, befruchten.( “Befruchten” is a german word that means to fertilise, not only in the sense of conception of a child, or a fruit, but also in the sense of bearing energy.)

 -Susmita Paul

 

A Haunting

A list is haunting the Indian academia. The list of Raya Sarkar. What she has done is to create a virtual hall of shame for Indian academics accused of sexually harassing students and colleagues. As the list demonstrates, some of the offenders are known and have already been penalised while others have neither been formally charged nor held guilty. While objections have been raised regarding the authenticity of anonymous accusations and the ethics behind them, reports have also come to light of offensive behaviour, by certain individuals on the list, which were not available in the public domain in the past. Raya Sarkar has also claimed that each individual name included on the list is based on screenshots, first-person accounts and other credible information provided either by the victims or by their close friends. While it is true that the readers should have had access to the information provided to make up their own minds, one also understands how such revelations might endanger the victims even further and that they may be subjected to legal, social and professional ostracization and subjugation. The list will not bring about institutional redress for the victims, but it might warn future students and scholars which in itself would be a notable achievement. However, in a world of constant digital manipulation of all kind of data, especially images, how does one become sure of the validity of the evidence Raya Sarkar claims to have in her possession? Is it too much to imagine that some people might just be making capital of other people’s trauma to satisfy their own malicious intentions? What to do about the reputations of these men who might thus be falsely accused? The overwhelming support Sarkar has received of course suggests that her initiative lends voice to the silenced trauma that many women, across time and space, have experienced within the walls of Indian academia without much hope for justice. And it is also true that academics across the country, especially in institutions which have had several of their faculty members mentioned in the list, are also showing signs of modified behaviour, with even hesitant declarations of apologies and amends. Some of the accused who have come out in denial have also had their hypocrisy exposed by other women who have been emboldened by the list to openly declare the instances of harassment which they witnessed or experienced.

Unfortunately, the publication of the list was also followed by its denouncement by a group of feminists on the online platform Kaafila which went on to spark an even greater controversy, especially with Raya Sarkar and her allies castigating their critics as advocates of Savarna Feminism. A movement that should essentially aim for broad-spectrum solidarity must not get mired in petty identitarian name calling or the demands to shut up or go away. Such fissures only strengthen the hegemonic order and weaken ongoing struggles for greater gendered justice within the academia. An anarchist list has its uses. But not at the expense of institutional measures which some of the feminists on other online platforms have been calling for, even though their call for the withdrawal of the list smacks of arrogant myopia and ignores the emotional salve it has been able to provide, to many women who have been victims of sexual harassment. During our time in Presidency College, we often came across or shouted a slogan: “When order is injustice, disorder is the beginning of justice”. The operative word from Rolland’s famous remark is ‘beginning’. The list might be seen as a beginning and not an end in itself. But if the process initiated by the list is to successfully continue, one needs utmost solidarity among people who seek to end violence, harassment or discrimination based on gender and sexuality, without privileging other determinants of individual identity such as caste, class or religion.

What is also agonizing is what the list and surrounding debates reveal about the nature of the Indian academia. Many of us have grown up hearing whispers and rumours of such behaviour, even though I have never come across definitive allegations or evidences of sexual misconduct. But what if the rumours were true? I remember batchmates talking about one particular teacher who spent too much time patting the backs of favoured female students. There have been scholars who have talked about a male professor pressing their thighs as if to congratulate them. There was even a story about a teacher who had supposedly claimed that a poem was like the body of Bipasha Basu: the deeper you went the more pleasurable it was. While I was able to ignore and scoff at these rumours by supposing them to be the ridiculous actions of gross old men, I am sure the female students did not feel the same. Incidentally none of those names are yet in the list which suggests that the problem is more pervasive than the 70 names on the list suggest. I cannot report any of these names as not only are they powerful but I have no evidence to back up my claims, especially since I only heard these reports from other male students and not even from supposed victims of these predatory actions. It is this shroud of silence and fear and shame that the list has perhaps managed to partially lift. After all, subaltern knowledge often eludes official archives and their due processes,

But what does this suggest about the academic world to belong to which we had worked so hard, with such idealistic passion? It is of course foolish to think that the maladies affecting the rest of the society will somehow not affect the academia. Far from it. But there is a difference between isolated cases of wrongdoing and systemic problems. And what the list, irrespective of its accuracy or lack of it, seems to hint at is a systemic problem which will further degrade the popular perception of the intelligentsia and the nature and significance of academic research. When the pioneers of retrieving subalterns from their shadows are seen as agents of subalternisation, disillusionment and apathy are inevitable. In our country, at this particular moment, there is a concentrated attempt to disparage rationality, intellectual vigour and the pursuit of truth to champion, bigotry, sycophancy and submission through verbal and physical violence. This is the time when we needed our academics the most so that the leading lights of academia could set examples of just action and behaviour so that the public could strive to extricate itself from the miasma of abusive, chest-thumping howls of division and hatred that are threatening the very fibre of our idea of India. Instead we have found ourselves mired in these lists, allegations and counter-allegations while the yogis, the gau-rakshaks, the bajrangis and their other cohorts prepare further assaults against all that we hold dear.

Disagreement should never put an end to dialogue. The compilers of the list and those who are sceptical of its efficacy should learn to listen to each other so that the kind of gendered justice they all seek can be collectively fought for, a fight that also needs to include other male academics who have neither practised nor condone the predatory activities of which some of their colleagues have been accused. It is only by forging networks of solidarity that are mindful of our specific limitations and cognizant of what we need to learn from others that we might together seek to thwart the quasi-fascist forces that are raving and raging across the land. In the name of Gauri Lankesh, M.M. Kalburgi, Narendra Dabholkar, Govind Pansare, Pehlu Khan, Akhlaq Ahmed, Nirbhaya and other martyrs of our time, can we dare to try? I think we must.

NAVIGATING FEMININITY THROUGH THE OTHER

A couple of months ago, I took an erratic and impulsive decision of accepting my friend Joe’s invitation to go to Nepal. This invitation and decision, both came in the wake of my personal struggle of dealing with and overcoming the horrors of being sexually molested by someone I considered a friend, some months ago. The horrors came with night-time terrors and day-time scrutiny of who I was, how I had been affected and how to navigate this sea of disdain I had slowly come to associate daily life with.

After making a short trip to Darjeeling, I returned to the city and immediately accepted my friend’s offer.

Joe is a professor in the Department of Politics, Philosophy and Education at the Asian University for Women in Chittagong, Bangladesh. He was going to stay in Nepal for a couple of months to brush up on Tibetan and excel in translations. Meanwhile, he opened his home to me, another one of his friends from Mumbai and his girlfriend from the Philippines. He had this idea of the four of us co-existing together for a brief while, focusing on our individual art and at the end of the day huddling together over wine to essentially engage in either discourses or nonsense banter- whichever the night demanded. Soon after I reached, we settled into a beautiful routine where it seemed like we had the perfect household and the perfect members to live with in peace.

Generally, Joe would be off all day attending translation classes and was not to be seen before evening. Prajna, the friend from Mumbai, a prolific woman with a wide knowledge and an impeccable taste in music and art, would mostly be off exploring places in and around Kathmandu.

That would leave Joe’s girlfriend and me spending a lot of time together, both too lazy to venture out, too poetic to not capture our thoughts into words while in bed and both too much in love with a good glass of rum- she much more than I!

Lola and I had only briefly met one evening, several months before this, during her trip to Calcutta with Joe. That evening we went to this “hip” joint called The Xrong Place, which I used to frequent once but slowly the attraction dwindled. When I had learned that Joe, Lola and a couple of other friends were drinking there, I swiftly made my way across town to give them a hug and share a drink.

In the course of that evening, what followed was unfortunate, infuriating and just a soddy reflection of the society that we are. A middle aged man kept eyeing Lola and when it became a little apparent that she may be trans, he started taking an intrusive and almost offensive interest in her- which led to Joe and the man getting into an altercation,even exchanging a few blows. The situation turned ugly when the pub people refused to evict this creepy and offensive man, rather wanting the foreigners to adjust, forgive and forget.

I’m not even going to go into the trope of the Irish man getting into bar fights scenario here, but what stayed with me from that evening was Lola’s infectious matter-of-fact dismissal of the man and his lecherous ways. It was at once both very feminine, yet had an archetypal sense of masculine power in the way she handled herself and Joe that evening. Not to mention the brief moments I could steal with her to speak of my then obsession, Nabokov’s Lolita, which I was incorporating into a play. It’s no coincidence that I met a Lola on the path of discovering another.

I knew, hence, that spending time with Lola in Nepal, would be enriching in more ways than one. If not enriching, certainly intoxicating, given her fervent love for her rum and my love for a glass of the same, every now and then!

In the afternoons, after our lazy breakfast making rituals, when we’d lay out in the balcony with a cigarette, a peg and a basket full of thoughts, I would often pose various questions to Lola, looking to her as this sister in arms, possessor of worldly knowledge of which I yearned for a taste. And she would rarely disappoint.

Everyone in that household was elder to me, except Lola who was just right. She was in her late twenties and was the closest to my age group which helped me open up without the fear of judgements with respect to my ignorance on so many things as opposed to the vast knowledge of highly accomplished people like Joe and Prajna.

She was the first trans-woman I had had the privilege of being close to and I knew this could help outline a lot of my ideas and notions regarding trans-sexuality, womanhood and the concept of transitioning itself. And thankfully, it did.

One of my earliest and the most endearing struggle I ever faced while “discovering” and charting my womanhood was my constant sense of duality. I was too sensitive and in tune with my emotions, hence too feminine, for my male friends to completely identify with my thoughts whereas I was too masculine in my day to day approach to life for my female friends to be completely understanding of my actions.

This is a phenomenon I have had the unfortunate luck of experiencing in almost all spheres of life, even today. The concept of a higher, wholesome and the most exemplary form of femininity was just an ideal- a social construct perhaps but an ideal nonetheless.

I had never had the comfort of being fully understood, until Lola, that is.

When  Lola would vaguely and sometimes in vivid details take me on a trip into her experiences of being a woman- acting, thinking and even dressing like one- I would feel like I could finally connect to that duality that exists within me without in anyway infringing on my identity of being feminine.

She once told me how back in her homeland, femininity or womanhood was largely prescribed in terms of one’s practical performances in the sphere of day to day life. It’s considered in terms of one’s performativity more often than not. Lola mentioned how her being drawn to cooking, staying home and taking care of the family was a major factor in her early moments of navigating the femininity. At the same time, a lot of her habits and traits were not considered to be the perfect depiction of the “ideal femininity” that she at one point struggled with.

For me, she is very close to my idea of femininity, perhaps because she resonates most with my internal duality which manifests itself in myriad manners.

I have reflected a lot on the phenomenon of trans-phobia and the historically rampant “Othering” and violence that has been meted out against the trans-community. A lot of people try to define it as a pathology whereas others call it plain and simple hate. And not to forget the vehement ideals of trans-womanhood itself that can be extremely bothersome and frightfully harmful.

In my conversations with Lola, I came to discover the inherent discriminations that exist between a lot of trans-women themselves. And these same discriminations are echoed more profusely within the cis-het majority, which really reflects little to no understanding, or rather a very flawed understanding of womanhood in itself.

Apparently, a lot of trans-women judge one another regarding “incomplete” transition. This in itself, I believe, defeats the whole process of accepting the identity one is attuned to irrespective of how they are born. If the concept of femininity is largely defined by our bodies then where exactly does the mind and its feelings and intuitions come in to act as a larger indicator of femininity?

I believe Trans-women are an example of how understanding femininity requires a broader perspective that defies just the rudimentary divisions of body, its organs and its relation to our mind.

When I see Lola dress up and head out, or cook for everyone or simply put on some lipstick and pose for the camera, I don’t see the social constructs of femininity within me being projected on to her in a systematic manner to help me identify her as a woman. She is as much a woman to me when she curses, is unruly, drinks like a sailor or takes charge or for that matter, how she uses the fucking bathroom!

To the trans-phobic, Othering trans-women becomes easy when their transitions are not complete because it gives them a card to call out on the disconnect between their body and their mind, relegating them to being pathological and in one single breath even perpetuate ridiculous stereotypes or notions to solidify a ground for mind-numbing hatred and singling out to oppress further within the patriarchal context.

In the face of such trying times, my only relief is in the search for the refined notions of femininity that is less about the superficial and superfluous demarcations and more about encompassing the concepts of the “Ideal Femininity” and its various rough edges and sides within everyday conversations thus, consistently refining, redefining and expanding at the same time.

In Joe’s recent book Trans*am- Cis Men and Trans Women in Love, he notes the experience of loving a trans woman as a cis het man and often refers to how it’s imperative to enlarge the conversation in a manner where the heteronormative ways of identifying as who we are do not inherently take precedence while talking about transamorous love. He writes :

                       “Cis men have largely devised and profited from the gendered economy of external validation in which the “Real Man” is the referential gold standard that sets terms for the “Real Woman,” and so many other fabricated metaphysical terms to label those who are Other, or less, than the “Really Real” (White) Man. While raking in the rewards of this economy, cis men are expected to be consistent, at least, and repose in our unassailable Manhood—a simple truth about reality—and imagine anything Other to be something with a significance relative only to their own.”

This same notion is so vital to keep in mind even as a cis het woman while engaging in conversations about our Othering of people who in theory, identify with her, so as to not alienate them from the discussion. This is one of the major drawbacks of modern day feminism when put to practice, and our systematic alienation of trans women, women of colour and of backward socio economic classes while engaging in day to day discourse.

May be when we expand our own vision of what it means to be a woman, only then can we reach out to the Other.

And only when we reach out to the Other, can we essentially understand, examine and even attempt to obliterate the archaic demarcations that keep us divided and ignorant about our own dualities of femininity and feminism as a whole.

– Navamita Chandra

(Originally published on Saintbrush)

Trans*am- Cis Men and Trans Women in Love by Joseph McClellan can be purchased here

Evening

Yamuna

 

In the dark night

I was going.

There was forest,

There was snake

There was swan

There was the music,

But I only remember

The night,

In which I was going.

 

That Window

 It was a north-faced one.

I didn’t have any other window

My home, my room was all but north.

The chilling cold dried my hair

It scorched my skin.

I shivered, for years as I didn’t have

The warm south.

And one day, as I decided to quit,

The window asked me,

“Is it you? Who’s left?”

 

The Light

Those dark horses don’t ply

In my prime I knew them

It wasn’t time, still, you and I

Waited to be longed for

Still, you and I…waited.

 

Days got older as our bird

And we got cold. Dear Lord,

We sickened together

until salvage came.

 

Dear Lord.

And Now, we see the light

at the end of the tunnel

The horses do go,

It is their prime.

-S Mukherjee